বিবাহ নবীদের সুন্নাত, চরিত্র রক্ষার মাধ্যম এবং প্রশান্তিময় পরিবারের ভিত্তি। ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে বলেছে, আর পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে দ্বীনদারি ও চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়েছে। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিবাহের গুরুত্ব ও সুন্নাহ তুলে ধরা হলো।
- বিয়ের নির্দেশ ও বরকতের প্রতিশ্রুতি
- বিয়ে নবীজির ﷺ সুন্নাত
- পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের মানদণ্ড
- সম্মতি, অভিভাবক ও মোহর
- ওয়ালিমা: সুন্নাহসম্মত আয়োজন
বিয়ের নির্দেশ ও বরকতের প্রতিশ্রুতি
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ
“তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের এবং তোমাদের সৎ দাস-দাসীদের বিয়ে দাও। তারা যদি অভাবী হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন।”
সূরা আন-নূর ২৪:৩২
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
“হে যুবকরা, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে, কারণ রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪০০ — আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত
বিয়ে নবীজির ﷺ সুন্নাত
তিনজন সাহাবি নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলেন। একজন বললেন, আমি সারা রাত নামাজ পড়ব। আরেকজন বললেন, আমি প্রতিদিন রোজা রাখব। তৃতীয়জন বললেন, আমি কখনো বিয়ে করব না। নবীজি ﷺ তাঁদের বললেন: “আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি এবং বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি। তবু আমি রোজা রাখি, আবার রোজা ছাড়ি। নামাজ পড়ি, আবার ঘুমাই। আর আমি নারীদের বিয়ে করি। যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৬৩ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের মানদণ্ড
“নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়: সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। তুমি দ্বীনদার নারীকে বিয়ে করে সফল হও।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৬৬ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
“যখন তোমাদের কাছে এমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব দেয়, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তখন তার সঙ্গে বিয়ে দাও। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেবে।”
জামে তিরমিজি, হাদিস ১০৮৪ (শাইখ আলবানি: হাসান) — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
الدُّنْيَا مَتَاعٌ، وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ
“দুনিয়া হলো উপভোগের সামগ্রী, আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সামগ্রী হলো নেককার স্ত্রী।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৬৭ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত
সম্মতি, অভিভাবক ও মোহর
“পূর্বে বিবাহিত নারীর সঙ্গে পরামর্শ না করে তাকে বিয়ে দেওয়া যাবে না, আর কুমারী মেয়ের অনুমতি ছাড়া তাকে বিয়ে দেওয়া যাবে না।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, তার অনুমতি কীভাবে বোঝা যাবে? তিনি বললেন: “তার চুপ থাকাই তার অনুমতি।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫১৩৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪১৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ
“অভিভাবক (ওলি) ছাড়া বিয়ে হয় না।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২০৮৫; জামে তিরমিজি, হাদিস ১১০১ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত
ফিকহি নোট: অধিকাংশ আলেমের মতে, ওলির উপস্থিতি বিয়ের শর্ত। হানাফি মাজহাবে প্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিমতী নারীর নিজ সম্মতিতে করা বিয়ে বৈধ, তবে ওলির অংশগ্রহণ উত্তম ও কাম্য।
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً
“আর তোমরা নারীদের তাদের মোহর খুশিমনে দিয়ে দাও।”
সূরা আন-নিসা ৪:৪
ওয়ালিমা: সুন্নাহসম্মত আয়োজন
আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রা.) বিয়ে করলে নবীজি ﷺ তাঁকে বললেন: “একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালিমা করো।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫১৬৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪২৭ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
“সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাবার হলো সেই ওয়ালিমার খাবার, যেখানে ধনীদের দাওয়াত দেওয়া হয় আর গরিবদের বাদ দেওয়া হয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫১৭৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৩২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৪:৪, ২৪:৩২ • সহিহ বুখারি: ৫০৬৩, ৫০৬৬, ৫০৯০, ৫১৩৬, ৫১৬৭, ৫১৭৭ • সহিহ মুসলিম: ১৪০০, ১৪১৯, ১৪২৭, ১৪৩২, ১৪৬৬, ১৪৬৭ • আবু দাউদ ২০৮৫ • তিরমিজি: ১০৮৪, ১১০১
Leave a Reply