☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

দোয়া ও যিকিরের ফজিলত: সহিহ সূত্রের মাসনুন আমল

আল্লাহ বান্দার খুব কাছে। তিনি ডাকে সাড়া দেন, আর যে তাঁকে স্মরণ করে, তিনিও তাকে স্মরণ করেন। দোয়া ও যিকির মুমিনের অন্তরের প্রশান্তি এবং আখিরাতের পাথেয়। এখানে কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে দোয়া-যিকিরের ফজিলত ও কয়েকটি মাসনুন আমল তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. আল্লাহ বান্দার কাছে
  2. দোয়াই ইবাদত
  3. যিকিরের ফজিলত
  4. সহজ কিন্তু ভারী যিকির
  5. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার
  6. নবীজির ﷺ সবচেয়ে বেশি পড়া দোয়া

আল্লাহ বান্দার কাছে

কুরআন

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

“আর যখন আমার বান্দারা আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (তখন বলুন) আমি তো কাছেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।”

সূরা আল-বাকারা ২:১৮৬

কুরআন

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

“তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”

সূরা গাফির (আল-মুমিন) ৪০:৬০

দোয়াই ইবাদত

হাদিস

الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ

“দোয়াই হলো ইবাদত।” এরপর নবীজি ﷺ তিলাওয়াত করলেন: “তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব…” (৪০:৬০)।

সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৪৭৯; জামে তিরমিজি, হাদিস ২৯৬৯ (হাসান সহিহ) — নুমান ইবনু বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত

হাদিস

“তোমাদের কারও দোয়া কবুল করা হয়, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বলে: আমি দোয়া করেছিলাম, কিন্তু কবুল হলো না।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩৪০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭৩৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

যিকিরের ফজিলত

কুরআন

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ

“সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।”

সূরা আল-বাকারা ২:১৫২

কুরআন

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

“জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।”

সূরা আর-রা‘দ ১৩:২৮

হাদিস

“যে ব্যক্তি তার রবের যিকির করে আর যে করে না, তাদের দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃতের মতো।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪০৭ — আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত

সহজ কিন্তু ভারী যিকির

যিকির

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

“দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, মিজানের পাল্লায় ভারী এবং দয়াময় আল্লাহর কাছে প্রিয়: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৯৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

যিকির

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

“যে ব্যক্তি দিনে একশবার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বলে, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৯১ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

“হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা। আমি সাধ্যমতো আপনার সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর আছি। আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার ওপর আপনার নিয়ামত আমি স্বীকার করি, আর আমার গুনাহও স্বীকার করি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।”

ফজিলত: যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দিনের বেলা এটি পড়ে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, সে জান্নাতি। আর যে রাতে পড়ে এবং সকালের আগে মারা যায়, সেও জান্নাতি।

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩০৬ — শাদ্দাদ ইবনু আওস (রা.) থেকে বর্ণিত

নবীজির ﷺ সবচেয়ে বেশি পড়া দোয়া

কুরআনি দোয়া

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

“হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন, এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।”

সূরা আল-বাকারা ২:২০১ • আনাস (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ এই দোয়াটিই সবচেয়ে বেশি পড়তেন — সহিহ বুখারি ৬৩৮৯; সহিহ মুসলিম ২৬৯০

দৈনিক আমল: সকালে ও সন্ধ্যায় সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়ুন। সারাদিনে অন্তত একশবার “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” বলুন। এতে সময় লাগে মাত্র দুই-তিন মিনিট।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ২:১৫২, ২:১৮৬, ২:২০১, ১৩:২৮, ৪০:৬০ • সহিহ বুখারি: ৬৩০৬, ৬৩৪০, ৬৩৮৯, ৬৪০৫, ৬৪০৬, ৬৪০৭ • সহিহ মুসলিম: ২৬৯০, ২৬৯১, ২৬৯৪, ২৭৩৫ • আবু দাউদ ১৪৭৯, তিরমিজি ২৯৬৯

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *